সুস্থ শরীর, সুন্দর মন!

.

আর এই সুস্থ শরীরের জন্যে প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণ সুষম খাদ্য। খাবার মানেই শক্তি। আমরা যাইই খাই না কেন, সেখান থেকে কিছু না কিছু শক্তি পাবোই। মানুষকে তাই খেয়ে যেতে হবে। কারণ আমরা যাইই খাই না কেন, শরীর তা ঠিকই হজম করে নিব। কিন্তু তাই বলে যা ইচ্ছা তাই খাবো? এটা অবশ্যই ঠিক নয়। আমাদের শরীরের জন্যে এমন কিছু খাদ্য নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত যা পুষ্টির ৬ টি উপাদান আমাদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখবে।

.

আমাদের খাদ্যাভ্যাসে ক্ষেত্রবিশেষে কোনো একটি প্রয়োজনীয় উপাদান বেশি গ্রহণ করতে গিয়ে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। তাতে হতে পারে নানারকম শারীরিক ক্ষয়। প্রাত্যাহিক ব্যস্ত জীবনে খাবারে অনিয়ম করা যেন এক নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা খুঁজছি খুব কম সময়ে কোন খাদ্যটি আমাদের ক্ষুধা মেটাতে পারবে, যা বানাতেও লাগবে খবই অল্প সময়। আর সাথে যদি একটু সুস্বাদু হয়, তাহলে তো কথাই নেই। এই জন্যে আমরা খুব সহজেই ঝুঁকে পড়ছি জাঙ্কফুডের দিকে। জাঙ্কফুড বাড়িয়ে দিচ্ছে স্থূলতাসহ নানাবিধও রোগব্যাধী।

.

যুক্তরাষ্ট্রে কেবল স্থূলতা (অবেসিটি) সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে বার্ষিক প্রায় ১৪৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বেড়ে গেছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। অনেকেই মনে করেন, স্থূলতা ধনী তথা উন্নত দেশের সমস্যা; উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশে এটি ঘটার সম্ভাবনা খুবই নগন্য। সাম্প্রতিকবছরে জাতিসংঘ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে দেখা যাচ্ছে, গত দশকে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশে মূলত আয়সক্ষমতা বাড়ার সুবাদে সংক্রামকের মতো বেড়েছে কিছু দীর্ঘস্থায়ী বিপাকীয় রোগ বিশেষত ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার ও স্মৃতিভ্রংশতা (ডিমনেশিয়া বা ভুলে যাওয়া রোগ)।

.

আমাদের খাদ্যভ্যাসে বেশ কিছু সিরিয়াস ভুল করে থাকি। এর মধ্যে প্রধায়েয়েকটি ভুল নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি যেগুলো না এড়িয়ে চললেই নয়ঃ

 

অতিরিক্ত শ্বেতসার

অতিরিক্ত শ্বেতসার (ভাত, রুটি, চিনি, ভুট্টা) আমাদের খাদ্যাভ্যাসের সবচেয়ে বড় সমস্যা। শ্বেতসার সাধারণত সে সমস্ত খাদ্য যেগুলো  কিনা শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি যোগায়। অতিরিক্ত শ্বেতসার দেহে চর্বি হিসেবে সঞ্চিত হয়। যা কিনা স্থুলতা সহ নানা রোগ এর বাসা বাধতে সহায়তা করে।

 

আমিষের পরিমাণ কম রাখা

আমাদের দেহের সকল উপাদান কম বেশি গঠিত হয় আমিষ দিয়ে।তাই আমিষ কে বলা হয় দেহের গাঠনিক উপাদানের একক। কিন্তু দূঃখের বিষয় এই যে আমরা আমিষের(মাছ, মাংস, ডিম, দুধ) পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত করে রেখেছি খাদ্য সমুহে।

কৃতজ্ঞতায়ঃ www.pexels.com

খারাপ তেলের ব্যবহার

তেলের মধ্যেও রয়েছে ভাল এবং খারাপ।ভাল তেলের মধ্যে রয়েছে সানফ্লাওয়ার অয়েল, কোকোনাট অয়েল, অলিভ অয়েল। তবে দুঃখের বিষয় এই যে আমরা সরিষার তেলের মত খারাপ তেলের দিকে ঝুকে যাচ্ছি। সরিষার তেলে রয়েছে ইউরিক এসিড যা কিনা শরীরে প্রদাহের সৃষ্টি করে থাকে।

কৃতজ্ঞতায়ঃ www.pexels.com

সবজির মধ্যে আলুর আধিক্য

আলুর প্রায় সবটুকুতেই রয়েছে শ্বেতসার। আর উপরে আগেই বলেছি অতিরিক্ত শ্বেতসার স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর।

কৃতজ্ঞতায়ঃ www.pexels.com

সবুজ শাকসবজি এর কম গ্রহণ করা

সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এন্টি এক্সিডেন্ট যা কিনা ক্যান্সার প্রতিরোধ, যৌবন ধরে রাখার মতন কাজ করে থাকে।

কৃতজ্ঞতায়ঃ www.pexels.com

সকালের নাস্তা পরিত্যাগ করা

এটা ঠিক যে, সকালে বেশ দৌড়ঝাপের উপর দিয়ে যেতে হয় আমাদের প্রত্যেককেই। স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, আদালত, কর্মক্ষেত্রে সময়মতো পৌঁছাবার প্রতিযোগিতায় ভুলে যাই সকালের পুষ্টিকর নাস্তা করে যেতেই। দুপুরে পুষিয়ে নেওয়ার এই অভ্যাস পরবর্তীতে আলসার, ক্যান্সারসহ নানারকম মারাত্মক রোগ ঝুঁকিতে নিয়ে যায়।

কৃতজ্ঞতায়ঃ www.pexels.com

মাত্রাতিরিক্ত  জাঙ্কফুড নির্ভরশীলতা

জাঙ্কফুড নিয়ে উপরেই একদফা আলোচনা  হয়ে গেছে। সময় বাঁচাতে ও কর্মক্ষেত্রেই দিনের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় পাড় করতে হয় বলে নানাবিধও জাঙ্কফুড যেমন বার্গার, পিজ্জা, বিরিয়ানী, গ্রিল, ভাজাপোড়া আইটেম গুলোকে আমাদের খাদ্যভ্যাসে খুব সহজেই গ্রহণ করে ফেলেছি। এর ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্বন্ধে নতুন প্রজন্মকে এখনই সতর্ক করতে হবে।